মুক্তকণ্ঠঅনলাইন মুক্তকণ্ঠঅনলাইন
Image
দুর্গাপুজোর পাস নিয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ED তল্লাশি

মুক্তকণ্ঠঃ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ :

কলকাতা: দুর্গাপুজোর আগে কলকাতার পুজো পরিক্রমার নামে পাস বিক্রি এবং ইউনেস্কোর নাম ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে প্রাক্তন মন্ত্রী ও গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ED। কসবার বাড়ি ছাড়াও কলকাতা ও আশপাশের একাধিক ঠিকানায় একই সময়ে তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা পৌঁছন। 

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর থেকেই এই অভিযান শুরু হয়। ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাসভবনের পাশাপাশি তাঁর আত্মীয়দের কয়েকটি ঠিকানা এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীলের বাগানবাড়ি ‘মোহর’-এও তদন্তকারী আধিকারিকেরা যান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অভিযান কতগুলি ঠিকানায় হয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংখ্যার পার্থক্য রয়েছে; প্রাথমিকভাবে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে ১০টি ঠিকানার কথা বলা হয়েছিল। 

অভিযোগের সূত্র কোথায়?

এই তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ। অভিযোগ, কলকাতার দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ বা পুজো পরিক্রমার নামে সাধারণ মানুষের কাছে পাস বিক্রি করা হত। সেই পাসে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।

২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’-এর স্বীকৃতি পাওয়ার পর এই ধরনের প্রচারকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, সেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে একটি সংস্থা নিজেদের ইউনেস্কোর সঙ্গে যুক্ত বা ‘অফিশিয়াল পার্টনার’ হিসেবে তুলে ধরে পুজো পরিক্রমার পাস বিক্রি করেছিল। তবে ইউনেস্কোর সঙ্গে ওই সংস্থার কোনও অনুমোদিত সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। 

কত টাকার লেনদেনের অভিযোগ?

ED সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই পাস বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা সংগ্রহ বা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পাসের দামও বেশ চড়া ছিল। ‘মাস আর্ট’-এর সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের যোগসূত্র নিয়ে তদন্ত করছে ED। 

তবে এই অর্থের প্রকৃত পরিমাণ কত, কোথা থেকে টাকা এসেছে, কোথায় সেই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এই সমস্ত বিষয়ই তদন্তের আওতায় রয়েছে। ফলে অভিযোগে উল্লেখ করা অঙ্ককে এখনও চূড়ান্ত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ হিসেবে ধরা যাচ্ছে না।

থানায় অভিযোগের পর ED তদন্ত

এই ঘটনাকে ঘিরে চলতি বছরের জুন মাসে বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে আর্থিক লেনদেন ও সম্ভাব্য অর্থপাচারের বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে। এরপরই ED এই মামলায় তদন্ত শুরু করে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ইউনেস্কোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ওই সংস্থার সঙ্গে কোনও অনুমোদিত সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের হাতে এই সংক্রান্ত নথিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন। 

এখন ED-এর নজরে কোন বিষয়গুলি?

তদন্তকারীরা মূলত জানতে চাইছেন, ‘মাস আর্ট’ কীভাবে তৈরি হয়েছিল, সংস্থাটির সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন, পুজো পরিক্রমার পাস বিক্রি করে মোট কত টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং সেই অর্থের গতিপথ কী ছিল। পাশাপাশি ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহারের অনুমতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

মঙ্গলবারের তল্লাশি থেকে তদন্তকারীরা কী কী নথি বা তথ্য সংগ্রহ করেছেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক লেনদেন, সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ED-এর এই অভিযানকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা সম্পর্কে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।

হাইলাইট